বর্তমান সরকারের যে ১০ মেগা প্রকল্প বাংলাদেশ বদলে দেবে।


দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই মুহূর্তে সরকার স্বপ্নের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আর্থিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই সরকার দ্রুত এই প্রকল্পগুলো শেষ করতে চাচ্ছে। এই প্রকল্পগুলোর উপর দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে।
চলুন জেনে নেই বাংলাদেশ বদলে দেয়া বর্তমান সরকারের ১০টি মেগা প্রকল্প সম্পর্কে-

০১. পদ্মা সেতু প্রকল্প-

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর ১৬টি স্পান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এই স্পান বসানোর পর ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর ২৪০০ মিটার অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে। আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে পুরো পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে কাজ করছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে  

০২. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-

দেশের সর্বোচ্চ ব্যায়ের প্রকল্প এটি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে কাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এটি হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

০৩. মেট্রোরেল প্রকল্প-

জাপান সরকারের অর্থায়নে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে মেট্রোরেল প্রকল্প প্রকল্পটির শুরু থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৪.৫৮ শতাংশ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে কাজ শুরু হয় যা ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান হয়েছে মেট্রোরেলের পিলার। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ।

০৪. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র-

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি হচ্ছে এতে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাউন্ডারি ওয়াল , স্লোপ, ভূমি উন্নয়ন ও অফিস কাম  আবাসিক ভবনের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। অন্যান্য কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের জুনে। ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১৮.৬৭ ভাগ।


০৫. এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ-

প্রকল্পটি বিল্ট ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির ১০ম সভায় গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি যুক্ত করা হয়। এর আওতায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি মহেশখালী­­-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ, আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প যুক্ত রয়েছে।  

০৬. মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র-

জাপান সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ ১.১ এর পাওয়ার প্লান্ট এবং ওপার্ট সুবিধার কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। প্যাকেজ ১.২ এর আওতায় প্লান্ট ও পোর্ট এবং পোর্ট সুবিধার কাজ ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ২০.১৬ শতাংশ শেষ হয়েছে।

০৭. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ-

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য এ প্রকল্পকে ১৯ টি কম্পোনেন্টে ভাগ করা হয়েছে এর মধ্যে ৭টি কম্পোনেন্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, ৬টি কম্পোনেন্ট পিপিসির মাধ্যমে এবং ৬টি কম্পোনেন্ট জি-টু-জি পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

০৮. পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ-

চীন সরকারের অর্থায়নে জি-টু-জি পদ্ধতিতে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছেপ্রকল্পের শুরু থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৮৮ কোটি টাকা প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ১৫.২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২৩.১৫ শতাংশ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা   

০৯. সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর-

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পটির অর্থায়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় এই প্রকল্পের কাজের এখনও কোন অগ্রগতি হয়নি। দশটি প্রকল্পের মধ্যে এই প্রকল্পটি সবথেকে বেশি পিছিয়ে আছে

১০. দোহাজারি-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমঘুম পর্যন্ত  সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প-

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ১১ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২৩.১৫ শতাংশ ২০১০ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা


এই ছিলো বর্তমান সরকারের ১০টি মেগা প্রকল্প এই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রবৃদ্ধি মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে। ব্যাবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চার হবে, সুযোগ সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের।  
নাইমুল ইসলাম

পোস্টটি লিখেছেন
আমি জয়। আমি এই ব্লগের এডমিন। ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের স্থাপত্য বিভাগের একজন ছাত্র। আমি খুলনা থেকে ঢাকায় পড়তে এসেছি। আমি ব্লগ লিখি এবং আমি একজন ইউটিউবার। এর পাশাপাশি আমি গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করি। ঘুরে বেড়ানো এবং সিনেমা দেখা আমি খুব পছন্দ করি।
Follow her @ Twitter | Facebook | YouTube

No comments

পোস্টটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন । আপনাদের কোন সমস্যাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যতটুকু সম্ভব সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো ।

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.