সুমেরীয় সভ্যতার ইতিহস।


মেসোপটেমীয়ায় গড়ে ওঠা সভ্যতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হলো সুমেরীয় সভ্যতা। সুমেরীয়দের আদি নিবাস ছিলো এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০অব্দে এদের একটি মেসোপটেমীয়ার দক্ষিণে গড়ে তোলে। সুমেরীয়দের নামানুসারে অঞ্চলটির নাম হয় সুমের। সুমের শব্দের অর্থ কালো মানুষ। সুমেরবাসীর গড়ে তোলা সভ্যতা তাই সুমেরীয় সভ্যতা নামে পরিচিত। সুমেরীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পূর্বে সুমেরে নগর গড়ে তোলে। নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ ও সংঘাত লেগেই থাকতো। তাই তারা নিজেদের রক্ষার জন্য নগরগুলোতে উঁচু দেয়াল দিতো। নগরের বাড়িগুলো ছিলো ইটের তৈরি এবং ছাদ্গুলো ছিলো কাঠের। তবে সে সময় এখনকার মতো ইট তৈরি হতো না, মাটি দিয়ে এক প্রকার শক্ত ইট তৈরি করতো তারা। তারাই প্রথম খিলান, ভল্ট ও পম্বুজ তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেছিলো।

সামাজিক শ্রেণি 

সুমেরীয় সমাজের মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিলো। উচ্চ শ্রেণির অধিবাসীরা ছিলো পুরোহিত, অভিজাত, বণিক, শিল্পপতি এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। মধ্য শ্রেণির অধিবাসী ছিলো চিকিৎসক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্বাধীন কৃষক ও কারিগর। আর নিম্ন শ্রেণির অধিবাসীরা ছিলো দাস, ভূমিদাস ও সাধারণ শ্রমিক।

নগররাষ্ট্র 

সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো ১৮টি প্রচীন নগররাষ্ট্র নিয়ে। এর মধ্যে ইরিদু, ব্যাড-টিবিরা লারসা, সিপ্পার, শুরুপাক, কিশ,উরুক এবং উর ছিলো উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি নগররাষ্ট্র ছিলো স্বাধীন ও সতন্ত্র। প্রতিটি নগররাষ্ট্রের একজন করে প্রধান ছিলেন। তাদের বলা হতো 'পাতেজি'। পাতেজির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা হতো ধর্মমন্দির জিগগুরাত থেকে। নগররাষ্ট্রগুলোর সামরিক ব্যবস্থা ছিলো একদম সুশৃঙ্খল। তারা অশ্বারোহী, পদাতিক ও তিরন্দাজ- এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিলো। সুমেরীয় সেনাবাহিনী কোনো নগর দখল করলে অত্যন্ত নৃশংহতার পরিচয় দিতো। অনেকে মনে করেন, সেনাবাহিনীর এ নৃশংহতাই সুমেরীয় সভ্যতা পতনের অন্যতম কারণ। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে সুমেরীয় বীর ডুঙ্গি নগররাষ্ট্রগুলোকে একত্র করে সুমেরীয় সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

চাকা আবিষ্কার 

সুমেরীয়দের বিখ্যাত উদ্ভাবন হচ্ছে চাকা আবিষ্কার। চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে তারা ঠেলাগাড়ি, ঘোড়া ও গাধার গাড়ি ব্যবহার শুরু করে। চাকা আবিষ্কারের পর খুব দ্রুত মেসোপটেমীয় সভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়। পাশাপাশি তা মানব সভ্যতার উন্নতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

ধর্ম 

সুমেরীয়রা বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিলো। তারা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা মনে করতো। তাঁদের দেবতা ছিলো- সূর্যের দেবতা শামাশ, চন্দ্রের দেবতা নান্নান, বায়ু ও বৃষ্টির দেবতা এনলিন, উর্বরতার দেবী ইশতার, পানির দেবতা এনকি এবং গ্লেগ রোগের দেবতা নারগল। তাঁদের প্রতিটি নগররাষ্ট্রের একজন আলাদা দেবতা থাকতেন। নগরগুলোতে ছিলো ধর্মমন্দির। মন্দিরগুলোকে বলা হতো 'জিগগুরাত'। সুমেরীয়রা প্রার্থনার সাথে দেবতাদের বিভিন্ন জিনিস উপহার দিতো। এমনকি দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য তারা মানুষ ও পশুও বলি দিতো। সুমেরীয়রা পরকালে বিশ্বাস করতো না। তারা বিশ্বাস করতো চন্দ্র দেবতা নান্নানের আশ্রয়ে সারা জীবন কাটাতে হবে। মৃত্যুর পর তারা মৃতদেহকে কবর দিতো।

আইন সংকলন 

সুমেরীয়দের রাজা দুঙ্গি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম আইনের কাঠামো গড়ে তোলেন। এই আইন ছিলো খুবই কঠোর। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট ছিলো প্রত্যেক অপরাধের জন্য অপরাধিকে সমান ক্ষতিকারক সাজা দেয়া হতো। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, অঙ্গের বদলে অঙ্গ কর্তন ছিলো শাস্তির মূল নীতি।
নাইমুল ইসলাম

পোস্টটি লিখেছেন
আমি জয়। আমি এই ব্লগের এডমিন। ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের স্থাপত্য বিভাগের একজন ছাত্র। আমি খুলনা থেকে ঢাকায় পড়তে এসেছি। আমি ব্লগ লিখি এবং আমি একজন ইউটিউবার। এর পাশাপাশি আমি গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করি। ঘুরে বেড়ানো এবং সিনেমা দেখা আমি খুব পছন্দ করি।
Follow her @ Twitter | Facebook | YouTube

No comments

পোস্টটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন । আপনাদের কোন সমস্যাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যতটুকু সম্ভব সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো ।

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.