পৃথিবীর বৃহত্তম ও বিখ্যাত ৫টি লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার!


গ্রন্থাগার হলো বই ও অন্যান্য মুদ্রিত সামগ্রীর সংগ্রহশালা। এছাড়া বিশ্বে গ্রন্থাগারকে এমন একটি ভবন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যেখানে বইপত্র ছাড়াও বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা, পাণ্ডুলিপি, মানচিত্র ও পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত চিত্রকর্ম সংরক্ষিত থাকে। লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার হচ্ছে মানব সভ্যতার  অবিচ্ছেদ্য অংশ।আসুন নিচে এমনই ৫টি লাইব্রেরি সম্পর্কে জানি-

লাইব্রেরি অব কংগ্রেস (Library  Of Congress):
সংগ্রহের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ সালে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ১৮১২ সালে যুদ্ধের সময় লাইব্রেরি ভবনটি আক্রমণ করে এতে সংরক্ষিত ৩,০০০ বই পুরিয়ে ফেলে। ১৮১৪ সালে লাইব্রেরিটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫১ সালে লাইব্রেরিতে আবারও আগুন লেগে যায়। এতে ৩৫,০০০ বইসহ মূল্যবান চিত্রকর্ম নষ্ট হয়ে যায়।

ব্রিটিশ লাইব্রেরি (British Library):
লন্ডনের হিউস্টন রোডে অবস্থিত ‘ব্রিটিশ লাইব্রেরি’ হচ্ছে ইংল্যান্ডের জাতীয় লাইব্রেরি। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি। ব্রিটিশ লাইব্রেরি ১৭৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ‘ব্রিটিশ লাইব্রেরি আইনের’ মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে এটিকে জাতীয় লাইব্রেরির মর্যাদা দেয়া হয়। এর আগে এটি ছিল ব্রিটিশ জাদুঘরের সম্পত্তি। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে বর্তমানে ১,৩৯,৫০,০০০ বই সংরক্ষিত আছে।

রাশিয়ান স্টেইট লাইব্রেরি (Russian State Library):
রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত ‘রাশিয়ান স্টেইট লাইব্রেরি’ রাশিয়ার বৃহত্তম এবং পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম লাইব্রের‍ি। এ লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬২ সালে। ১৮৬২ সালে যখন এ লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর নাম ছিল ‘দ্য লাইব্রেরি অব দ্য মস্কো পাবলিক মিউজিয়াম’। ১৯২৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভি. আই। লেনিন স্টেইট লাইব্রেরি অব দ্য ইউএসএসআর, রাখা হয়। ১৯৯২ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়, তখন আবার আর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘রাশিয়ান স্টেইট লাইব্রেরি’। রাশিয়ান স্টেইট লাইব্রেরিতে ৪,৩০,০০,০০০-এরও বেশি আইটেম রয়েছে, যার মধ্যে আছে ১,৭০,০০,০০০-এরও বেশি জার্নাল এবং ১,৫০,০০০ মানচিত্রসহ অন্যান্য আইটেম।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি (Harvard University Library):
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ ১৬৩৮ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাচীন এবং পৃথিবীর বৃহত্তম একাডেমিক ও বৃহত্তম প্রাইভেট লাইব্রেরি সিস্টেম। সংগ্রহের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি (প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে লাইব্রেরি অব কংপ্রেস এবং বোস্টন পাবলিক লাইব্রেরি)। এ লাইব্রেরিটিতে বর্তমানে ১,৩৬,০০,০০০ বই সংরক্ষিত আছে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ফ্রান্স (National Library Of France):
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ফ্রান্স’ নামের গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৬১ সালে। তখন এর নাম ছিলো রয়েল লাইব্রেরি এবং এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো ল্যুভর প্রাশাদে। পরবর্তীতে ১৮৬৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইম্পেরিয়াল ন্যাশনাল লাইব্রেরি’ এবং নতুন ভবন নির্মাণ  করা হয় ১৯৮৮ সালে। বিখ্যাত এ গ্রন্থাগারটিতে ১,৪০,০০,০০০ বই সংরক্ষিত আছে।

নাইমুল ইসলাম

পোস্টটি লিখেছেন
আমি জয়। আমি এই ব্লগের এডমিন। ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের স্থাপত্য বিভাগের একজন ছাত্র। আমি খুলনা থেকে ঢাকায় পড়তে এসেছি। আমি ব্লগ লিখি এবং আমি একজন ইউটিউবার। এর পাশাপাশি আমি গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করি। ঘুরে বেড়ানো এবং সিনেমা দেখা আমি খুব পছন্দ করি।
Follow her @ Twitter | Facebook | YouTube

No comments

পোস্টটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন । আপনাদের কোন সমস্যাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যতটুকু সম্ভব সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো ।

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.